



আমাদের স্বর্গ কাশ্মীর
আমাদের স্বর্গ কাশ্মীর বিশ্বজিৎ ব্যানার্জী আমাদের স্বর্গ কাশ্মীর। নেপালের এভারেস্ট বিশ্বের বড় পর্বত—একসাথে চোখকে সার্থক করলাম। বিশ্বজিৎ ব্যানার্জী (সাংবাদিক): ভোজন রসিকরা যেমন খাদ্যের প্রতি দুর্বলতা দেখায়, তেমনি ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ অনেকের। পৃথিবীতে এক ভাগ স্থল, তিন ভাগ জল। ওই এক ভাগ স্থলের মধ্যে ভগবান তাদের নিজের মতো করে সাজিয়েছেন, যেখানে মানুষের বিস্ময়, নানা ধরনের কৃষ্টি, সংস্কৃতি এক মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। চোখ যেদিকে যায় শুধু বিস্ময় আর বিস্ময়। সৃষ্টিকর্তা যেভাবে সাজিয়েছেন, সেখানে শুধু বিস্ময় আর মন ভালো হয়ে যাওয়ার এক আনন্দ। যেখানে মন ভালো হয়ে যায়, সেখানে সারা জীবন সেখানেই থেকে যেতে ইচ্ছা হয়। মন-প্রাণ ভালো হয়ে যায় সবুজ গাছের মধ্যে প্রথম দিনের সূর্য ওঠা দেখে। মন ভালো হয়ে যায় নীল সমুদ্র বা মরুভূমিতে সূর্য ডুবে যাওয়া দেখে। এমন দৃশ্য দেখার জন্য ছুটে যায় ভ্রমণপ্রেমীরা। আমাদের ভারতবর্ষ পৃথিবীর মধ্যে একটা স্থান করে নিয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য। যা শুধু আমরা উপলব্ধি করি না—বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটক, ভ্রমণপ্রেমীরা ছুটে আসেন। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, মুম্বাই থেকে পুরী, দক্ষিণ ভারতের কন্যাকুমারী, পণ্ডিচেরি থেকে কলকাতার দক্ষিণেশ্বর, বেলুড়, কালীঘাট থেকে তারাপীঠ—সর্বত্রে নানা অলৌকিক স্থান, মায়ের মন্দির। নদিয়ার নবদ্বীপ, মায়াপুর ইসকনে সারাবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ আসেন নানা প্রকৃতি, মন্দির ও ভগবানের রূপ দেখার জন্য। এই সৃষ্টি, কৃষ্টি আমাদের ভারতবর্ষে সারা বিশ্বকে টানে। ভারতবর্ষে বিভিন্ন জায়গা থাকলেও ভূস্বর্গ কাশ্মীর প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভগবানের সাজানো—নানা ফুল, পাহাড়, নদী, ঝর্ণা আর নীল আকাশের মাঝে পাহাড় ডিঙিয়ে সেই শোভা এক অসাধারণ, যা “ভূস্বর্গ কাশ্মীর” নামের প্রতি যথাযথ সম্মান দেয়। কাশ্মীরের সঙ্গে পাহাড়কে যারা খুব ভালোবাসে, তারা কাশ্মীর, সিমলা, মানালি, কিন্নর—সেই সঙ্গে ভারতের পাশের দেশ নেপাল ঘুরে আসতে পারেন। তাই ঠিক করলাম ভূস্বর্গ কাশ্মীর। আমার কয়েকজন বন্ধুর পরিবার বললো—নেপাল। তাই যদি দুটো জায়গায় ঘুরে আসা যায় কেমন হয়? তাই কাশ্মীর, সেই সঙ্গে নেপাল ঘুরে আসলে মন্দ হয় না। টাকাটা একটু বেশি লাগবে। আমার সহধর্মিণী শুভ্রাকে চমক দিতে, সেই সঙ্গে মেয়ে শিবাঙ্গি ও ছেলে বৈভবকে চমক দিয়ে দুই বন্ধুর পরিবারকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। বাড়িতে একটা সারমেয় রোজা—তাকে নিয়ে যাওয়ার উপায় নেই, তাই বাড়িতে আত্মীয়ের কাছে রেখে দশ দিনের নেপাল, সেই সঙ্গে কাশ্মীর ভ্রমণের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেল। খরচ একটু বেশি হলেও অপরূপ সৌন্দর্য, ভগবানের সৃষ্টি উপলব্ধি করতে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করলাম। প্লেনের টিকিটও পেয়ে গেলাম কম দামে। তবে বিহারের পাটনা থেকে—প্রথম কয়েকদিন টিকিটের দাম বেশি থাকায় ভ্রমণটা কি ক্যানসেল হবে? অল্প সময়ের মধ্যে দুটি জায়গা কী করে হবে? অবশেষে অফারের টিকিট কেটে ফেললাম। প্রথমে হাওড়া থেকে ট্রেনে রক্সৌল, সেখান থেকে বাসে নেপালের কাঠমান্ডু। দুই দিন থেকে পোখরা—একদিন ঘুরে রক্সৌলে ফিরলাম। নেপালের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এভারেস্ট। কাঠমান্ডু, মনোকামনা, পোখরার নয়নভোলা সবুজের হাতছানি—ছুঁয়ে করেও প্রকৃতির সৌন্দর্যের কিছুটা উপভোগের স্বাদ পেলেও একটু তাড়াতাড়ি হয়ে গেল। বন্ধুর পরিবার, আমার পরিবার—এত দ্রুত নেপাল ভ্রমণে একটু অসন্তুষ্ট হলেও কাশ্মীর যাওয়া হচ্ছে শুনে মনে মনে খুশি। পাটনা থেকে প্লেনে জম্মু, সেখান থেকে দুই দিন থেকে চারদিন কাশ্মীর, পাহেলগাঁও ভ্রমণ। মন তৃপ্তি—সব দুঃখ, কষ্ট নিমিষে জল। যা উপলব্ধি করলাম—এমন প্রকৃতি, এমন দৃশ্য যা মনের গভীরে থাকবে অনেকদিন। জম্মু থেকে বিমানে কলকাতা ফেরা। অল্প সময়ের মধ্যে নেপাল আর কাশ্মীরের প্রাকৃতিক শোভা—এক অনাবিল আনন্দ, অনাবিল সুখ, অনাবিল ভালো লাগা—যা জন্ম জন্মান্তরে ভুলবে না আমাদের ভ্রমণসঙ্গীরা।
